রমেন ফিরে এসেছে দুনিয়ায় । রেজিগ্নেশন লেটার আগে থেকেই লিখে এনেছিল, এসেই বসের মুখের উপর ছুঁড়ে মেরে এক লাফে বাড়িতে ফিরে এল । বৌ তখন বারান্দায় বসে কাঁদছে, চোখের জল জমতে জমতে চোখে শ্যাওলা হয়েছে । চোখে শুধু অন্ধকার দেখে । এই বৌকে দেখে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসগুলোর কোন নারী চরিত্রের কথা মনে পড়ে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয় । এখানে স্ত্রী মানেই যতসব ইতরের বাচ্চা পুরুষদের দাসী হওয়ার জন্যে একুল পরান । এখানেও তাই ।

 

চোখে দেখেনা যদিও, তবু সপ্তজন্মের প্রভু, স্বামীজি (এত ভাল বৌ, মোদি জমানায় যদি স্বামীর সাথে জি না লাগাই তাহলে আমার আর রক্ষে নেই, হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্থান) আসতেই বৌ গন্ধ পেল, নাকের ভেতর খুব বেশি শ্যাওলা জমেনি, শ্বাস না নিয়ে পারছেনা । গন্ধ পেতেই গন্ধাভিমুখে দিল দৌড়, "স্বামী, প্রভু, অন্নদাতা মালিক, এতদিনে তবে এই কাজের মাসি তথা যৌনদাসীকে দেখতে ইচ্ছে করল আপনার?” তারপর বোধহয় মনে পড়ল বনলতা সেনের একটা লাইন, সেটাও টুকে দিল "এতদিন কোথায় ছিলেন?” মাধ্যমিকের সময় বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রবন্ধ শিখতে হয়েছিল, মাষ্টার মশাই বলেছিলেন প্রবন্ধের শুরু কবিতা দিয়ে করতে, বেশ কিছু মানানসই লাইন তিনি পাতার মাকে লিখে দিয়েছিলেন, নিজেই লিখে দিয়েছিলেন, জীবনে কবিতা অনেক লিখেছিলেন কিন্তু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এক ফর্মার বই তিনি ছাপাবেননা, কিন্তু চার ফর্মা ছাপানোর টাকাও তাঁর জমানো হয়নি, কবিতার বই ছাপানোও হয়নি । সেই দুঃখ কিছুটা দূর করতেন তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে পরীক্ষায় বাংলা রচনার শুরু তাঁর নিজের লেখা কবিতা দিয়ে করিয়ে । মহাকবি ভূষিত ভূষণ । সে যা হোক, রমেনের বৌ জানে কবিতার লাইন ছলে-বলে-কৌশলে পুড়ে দিতে পারলে জিনিসটার কদর বাড়ে, সে জিনিস কথাই হোক নয় পেট খারাপের মলম ।

 

রমেন ভাল লোক, সহধর্মিণীর এই অবস্থা দেখে ওর নিজেরও কান্না পেল । হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল । জড়িয়ে ধরল বৌকে । ঠিক তক্ষুনি আকাশ বানী হল, হে রমেন ও রমেন বধূ, আজ থেকে একশ একুশ বছর পর তোমাদের যমজ সন্তান হবে । তারা শুধু গান গাইবে, আর কিছুই করবেনা । আকাশবানী শুনে ওরা দুজনে আরো খুশি হল । কতক্ষণ যে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে থাকল তা তারা নিজেও হিসেব রাখে নি ।

 

রমেনের বৌ অক্সফোর্ড এর পিএইচডি । হলে কি হবে, নিজের স্বামীকে খাওয়ানোর জন্যে অনেক রান্না শিখেছে সারা জীবন ধরে । আজ করেছে বেগুণ নুডল । বেগুণ নুডল রমেনের খুব পছন্দ । সর ও বেগুণ ভাজির মিশ্রণও রমেনের খুব পছন্দের । বেগুণ নুডল খেতে খেতে রমেন বলল,

হে দেবী, তুই কি খাবি? তোর জন্য কি রাখবো?”

না প্রভু । আপনি খান, আপনার হয়ে থাকলে তবেই আমি খাব ।"

(আশা রাখি আমি প্রমাণ করতে পেরেছি যে আমি বঙ্কিমচন্দ্রের বিগ ফ্যান ।)

ঠিক আছে দেবী।"