Understanding “A Thing of Beauty”

ভেবে ছিলাম পড়া যখন হয়নি একটা ভিডিও করে পাঠাব তোমাদের । সেটাও হলনা । ঠিক করে কথা বলতে পারছিনা । আসলে জন কিটস ব্যাপারটাই সেরকম । ওখানে মাস্টারি চলেনা । কোনো কবিতাই আসলে পড়ানো যায়না, শুধু পড়ে নিতে হয় । কারণ কনসাস মনের সীমা পেরুলে শুরু হয় কবিতার জগৎ, সেই জগতে আর যাই হোক কেউ শিক্ষক নয় কেউ শিক্ষার্থী নয়, সকলে উদ্ভ্রান্ত । পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওসব বোঝেনা, আসলে খুব নিচু মেধার মানুষগুলোই ইউনিভারসিটিতে কাজ করে, রামবাবু শ্যামবাবুদের হুকুমে ওরা শুরু করল কবিতার বস্ত্রহরন । কনসাস মনের চাপে পড়ে তৈরি হল অজস্র তত্ত্ব, শুরু হল কবিতার মানে । যারা নিজের মানে জানেনা তারা কবিতার মানে বের করতে শুরু করল । যেখানে মানুষের চামড়া পোড়ালেই ভয় করে সেখানে অধ্যয়নের নাম করে চলল কবিতার পোষ্ট মরটেম । এখন ওটাই প্রথা । ফলে কবিতা পড়ানোর নাম করে প্রায় রোজই একেকটা কবিতার প্রাণ নিচ্ছি । কিন্তু কবিতা কিটস এর মত কবির হলে হত্যা এত সহজ হয়না, চামড়া ছিঁড়তে চায়না কিছুতেই । তবু ছিঁড়ে, কত পাঠারইতো গলা কাটতে চায়না, তবু কসাই কাটে, এক পোঁচে না হলে পাঁচটা দিতে হয় - এই তো!


“A Thing of Beauty” নামে কোন কবিতা কিটস লেখেননি । কপি রাইটের সময় সীমা পেরিয়ে গেলে ওরকম কবিতা বোর্ডে বসা পণ্ডিতেরা অনেক কবিদের দিয়েই লিখিয়ে ছাড়েন! এইটুকু ক্ষমতা না থাকলে কি আর দেশ শুদ্ধু লোক সরকারি চাকরি পেতে চায় ? মুল কবিতার নাম 'Endymion’ । সে এক পৌরাণিক চরিত্র । ইংরেজিতে বলে Mythological Character । এগুলো হচ্ছে একরকমের লোক গল্প, মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াত, দেব-দেবী, অতিলৌকিক মানুষ এদের গল্প বর্ণিত থাকে । তোমরা আজ অব্দি যে সকল দেব-দেবীর গল্প শুনেছ, ওগুলোই হচ্ছে পৌরাণিক গল্প । গণেশের শরীরে হাতীর মাথা । মহালয়ার গল্প । বিষ্ণু পুরাণ । এগুলো সবই হচ্ছে ভারতীয় Myth । আমাদের Endymion হচ্ছে গ্রীক দেশের myth এর চরিত্র । লোকটা ছিল যার পর নাই সুন্দর, ওই কবিতায় যেরকম পড়েছি, A thing of beauty, সেইরকম সুন্দর এক জিনিস (মানুষ) । এর গল্পই নিজের কাব্যরসে চুবিয়ে তুলেছেন কিটস । একটি দীর্ঘ কবিতা । সেই দীর্ঘ কবিতার প্রথম ভাগের প্রথম স্তবকের প্রথম দিকের কিছু অংশ এনে তোমাদের বইয়ে “A Thing of Beauty” নামে দেওয়া হয়েছে ।

বলা হয়ে থাকে Endymion ছিলেন এক শিকারি অথবা রাজা, তিনি থাকতেন অলিম্পিয়ায়, অলিম্পিয়ার শাসনও নাকি তিনিই করতেন । তাঁর মুল পরিচয় নিয়ে দ্বিধা থাকলেও তিনি যে যার পর নাই রূপবান ছিলেন এ নিয়ে কোনো দ্বিধার অবকাশ নেই । চাঁদের আদি দেবী সেলেনে Endymionকে ভালবাসতেন । সেজন্যে তিনি চাইতেন যেন Endymion কোনদিন বুড়ো না হয়, যেন তাঁকে ছেড়ে চলে না যায় । সেজন্যে Endymion এর পিতা যিউস এর কাছে গিয়ে সেলেনে বর চাইলেন যেন Endymion চিরকাল এরকমই সুন্দর থাকে । পাশাপাশি Endymion এক পর্বতের গুহায় শুয়ে থাকতো, সেই শুয়ে থাকা Endymion এর মুখ দেখতে সেলেনের খুব ভাল লাগতো, ফলে তিনি এও চাইলেন যিউস এর কাছে যেন সে চিরকাল এরকমই সেই পর্বতে ঘুমিয়ে থাকে । যিউস সে আশা পুরন করলেন, Endymion সেখানে সেভাবেই চিরকালের জন্য নিজের রূপকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে রইল । সেলেনে সেখানে যেতেন, Endymion ও সেলেনের পঞ্চাশ জন কন্যা সন্তানও রয়েছে । এই হল মুটামুটি Endymion এর মিথ । যেরকম মিথের ধর্ম, স্থান ও ব্যক্তি ভেদে গল্প খানিকটা পালটে যায় । ওসব কখনো সময় পেলে তোমরা পড়ে নিও ।

আগামী পর্বে আমরা কবিতাটা বোঝার চেষ্টা করবো ।